শূন্যতা

সিগারেটে শেষ টানটি দিয়েছি সবে হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল, দেখলাম অচেনা একটি নাম্বার ভাসছে ফোনের স্ক্রিনে।
কিছুক্ষন ধরে চিনতে চেষ্টা করলাম পরিচিত কি না, দেখলাম নাহ সম্পূর্ণ নতুন একটি অচেনা নাম্বার। ততক্ষনে আমি পৌছে গেছি বাসের ভেতরে আমার ছিটে।
ছিটে বসে ফোনটা রিসিভ করতেই একটি নারী কন্ঠস্বর ভেসে এল ওপাস থেকে। আমার খুব পরিচিত একটি কন্ঠস্বর, যে কন্ঠস্বর আজও আমার হৃদয়ের কম্পন বাড়িয়ে দেয়। তবুও আমি বোকার মত প্রশ্ন করলাম “কে?”,
উত্তর এল “আমি রাতপরী”
আমি বললাম “কোথায় থাকেন?”
ওপাশ থেকে পিনপতন নিরবতা।
আমি আবারও প্রশ্ন করলাম “কি নাম আপনার?”
এবার জবাব এল “নাম বললে কি মাথায় তুলে রাখবেন?”
আমিঃ যদি মাথায় তুলে রাখার মত হয় অবশ্যয় রাখব।
উত্তর এল “আমি *****”
নামটা শোনার পরে কোন কথা বলতে পারি নি আমি, মিনিট দুয়েকের জন্য ফ্রিজ হয়ে গেছিলাম আমি।
ওপাশ থেকে প্রশ্ন করল “কি এখন কি মাথায় তুলে রাখবেন আমায়?”
আমি আবারও স্তভিত।
আবার প্রশ্ন করলাম আমি “কোথায় তুমি? ঢাকাতে নাকি বাড়িতে?”
সেঃ আমি শ্বশুর বাড়িতে।
আমিঃ কি বল তুমি? তোমার বিয়ে হলে আমি তো অন্তত জানতাম।
সেঃ সত্যি আমি শ্বশুর বাড়িতে। কিছুদিন আগে আমার বিয়ে হয়ে গেছে।

আমিঃ তুমি মিথ্যে বলছ। আমার কোনভাবেই বিশ্বাস হচ্ছে না।
সেঃ হ্যা সত্যি, আমার ইচ্ছে ছিল না, পরিবারের ইচ্ছাতে করতে হয়েছে।
আমি নিশ্চুপ
সেঃ টিভিতে জেমস এর গান শুনছিলাম। তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল, আর কি আশ্চর্য এত বছর পরেও তোমার নাম্বারটা আমার মুখস্তই আছে তাই ফোন দিলাম।
 
তারপর অরও কিছুক্ষন কথা হল তার সাথে।দীর্ঘ সাতটি বছর পরে তার সাথে কথা বলা। আজ আমরা কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করি নি “কেমন আছ”। আমি তাকে বলিনি যে, জেমস এর গান আমি আর শুনি না তোমার সৃতিগুলো কাঁদায় বলে। আরও অনেক না বলা কথা বলতে গিয়েও বলিনি তাকে। কি হবে বলে। তারচে সেগুলো আমার কাছেই জমা থাক। তার নাম্বারটা সেভ করিনি ইচ্ছে করেই। তাকে জিজ্ঞেসও করি নি নাম্বারটা তোমার পার্সোনাল কি না। কল লিস্টে থাকতে থাকতে একাই হারিয়ে যাক সেটা। শুধু সে ভাল থাকুক। অনেক বেশী সুখী হোক তার সংসার। তবুও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না তার বিয়ে হয়েছে। বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোটানা থেকে মুক্তি পেতে এই মধ্যরাতেই ফোন দিলাম তার কাজিনকে, যে ছিল একসময় আমাদের বার্তাবাহক। টানা সাত থেকে আট বার ফোন বাজার পর ঘুমার্ত কন্ঠে যা বলল সেই একই কথা।
কান থেকে নামিয়ে রাখলাম ফোন। নিকোটিনে ঘেরা হার্ট নিতে পারছিল না কষ্টগুলো আর, অশ্রু হয়ে ভিজিয়ে দিল দুচোখ।দীর্ঘ সাত বছরের ছায়চাপা আগুনে আজ যেন নতুন করে ঘি পড়ল, দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করেছে বুকে জমাট বাধা ক্ষতগুলো।কিছু মানুষ আছে এ পৃথিবীতে যারা জন্ম থেকেই অভাগা, আমিও তাদেরই দলে।রাতের স্তব্ধতা ভেদ করে ছুটে চলেছে বাস দুরন্ত গতিতে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে ঝড়ছে অশ্রুকনাগুলো। থামবেনা কেউ যেন আজ।।আকাশের দিকে তাকিয়ে এখন মেঘের সাথে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলছি।সিগারেটের শূন্যতাবোধ করছি চরম ভাবে।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s