হয়তো একদিন ভুলে যাবে

প্রেমিকা : কি করছো ?
আমি : ছবি আঁকছি l
প্রেমিকা : কার ছবি ?
আমি : তোমার ছবি l
প্রেমিকা : হটাৎ আমার ছবি কেনো ?
আমি : দেখছি তোমাকে সিঁদুর পরিয়ে কেমন দেখাবে ?
প্রেমিকা : এত্ত ভালবাসো আমায়….!! কিন্তু যদি অন্য কারো
সাথে আমার বিয়ে হয়ে যায় তাহলে তুমি কি করবে ?
আমি : জানিনা…., তবে তুমি আমাকে একদিন ঠিকই ভুলে
যাবে l
প্রেমিকা : খুব রেগে গিয়ে প্রায় ধমক দিয়েই বললো, কীভাবে ?
আমি : আমি বললাম পরিস্থিতি একদিন তোমাকে আমার
নামটাও ভুলিয়ে দেবে ……! মনে করো বিয়ের দিন
সকাল থেকেই উপবাস, লোকজনের ভিড়, ক্যামেরার
আলো, সানাইয়ের অওয়াজ এসবের মাঝে তুমি খুবই
ক্লান্ত হয়ে পড়বে, তুমি চাইলেও তখন আমার কথা
মনে করতে পরবে না l
অন্যদিকে আমি তখন বন্ধুর সাথে উল্টো-পাল্টা খেয়ে
পড়ে থাকবো আর নিজের মনকে বোঝানোর জন্য
তোমাকে স্বার্থপর বলে গালি দিব l
বৌ ভাতের দিন তুমি তো আরও ব্যস্ত হয়ে পড়বে, সেদিন
নায়িকার মতো করে সবাই তোমাকে দেখতে চাইবে,
তোমার সাথে কথা বলতে চাইবে, আর আমি সেদিন
একলা অন্ঘধকার ঘরে বসে পুরনো স্মৃতির কথা মনে
করে করে কাঁদবো l
বিয়ের শেষে তোমার সব আত্মীয় যখন বাড়ী চলে যাবে
তখন আমার কথা তোমার হটাত হটাত মনে পড়বে l
তারপর তোমরা হানিমুনে যাবে……!! ঘুরতে যাবে কোনো
এক বরফের দেশে, ওটা হবে তোমার সুখের স্বর্গরাজ্য..!!
ওখানে তোমার স্বামী তোমার এতোটাই care নেবে যে,
তোমার তখন নিজের বাবা- মার কথাও মনে আসবে না,
আর ভুল করেও যদি আমার কথা তোমার একবারও
মনে পড়ে যায় তাহলে তুমি ভাববে, আমার সাথে
তোমার বিয়ে না হয়ে বোধহয় ভালই হয়েছে, আমি
ততদিনে নিজের পড়াশোনা জলাঞ্জলি দিয়ে উদ্দেশ্যহীন
ভাবে জীবনের পথ চলছি, লোকদেখানো নর্মাল জীবন
শুরু করেছি, সবাইকে বলি তোমাকে ভুলে গোছি, কিণ্তু
মাঝ রাতে তোমার sms গুলো পড়ি আর দীর্ঘশ্বাস
ছাড়ি l তারপর একদিন তুমি মা হয়ে যাবে, তখন তুমি
আর কারও প্রেমিকা কিংবা নতুন বৌ থাকবে না, আমার
স্মৃতি কিংবা স্বামীর আহ্লাদ, এসবের চেয়ে বাচ্চার care
নিতে তুমি সারাটা দিন ব্যাস্ত থাকবে l আর আমি তখন
তোমার জীবন থেকে মোটামুটিভাবে পারমানেন্টলি
ডিলিট হয়ে যাবো….!! এতোদূর বলার পর দেখি প্রেমিকা
ছলছল চোখ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে …..
কিছু বলতেও পারছে না…
প্রেমিকা : কিছুক্ষন পর ও বললো তবে কি সেখানেই সব শেষ ?
আমি : আমি বললাম না না…..
পৃথিবীটা তো খুবই ছোটো…!!
হয়তো তুমি আর তোমার স্বামী কোনো এক ক্লান্ত
বিকেলে ঘুরতে বেরিয়েছো…..নির্জন­ পথ ধরে গল্প
করতে করতে হেঁটে চলেছ, ঠিক সেইসময় দেখতে পেলে
আমি সামনে দিয়ে হেঁটে আসছি, আমরা তখন মুখোমুখি
-সামনাসামনি, কয়েক সেকেণ্ড পরস্পরের দিকে
তাকিয়ে থাকবো, কিণ্তু পাস কাটিয়ে চলে যাবার
সময় দেখবে আমাদের দুজনেরই বুকের বাম পাশটা
অসহ্য ব্যথায় চীন চীন করে উঠবে, দুজনের চোখে জল
বেরোবে না ঠিকই কিণ্তু, দুজনের হৃদয় ঠিকই কাঁদবে
যে কান্নার আওয়াজ কারোর কানে পৌঁছবে না l রাস্তায়
যেতে যেতে তোমার স্বামী বিড়বিড় করে কি সব বলে
যাবে তা তোমার কানে পৌঁছবে নাl করণ, আমাদের
দুজনেরই তখন মনে পড়বে কয়েক বছর আগে
পরস্পরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো, মনে পড়বে একে –
অপরকে ছেড়ে থাকতে না পরার মতো দিনগুলোর
কথা ………
[এটা কাল্পনিক, নিজেকে যুক্ত করে গল্পটিকে প্রাণবন্ত করে
তুলেছি মাত্র……..!! তবে বাস্তবের সাথে যে এই ঘটনার কোনো
মিল নেই এই কথাটা বোধহয় বলা ভুল হবে l বরং , বলা যেতে
পারে ” এটাই হলো পৃথিবীর অলিখিত নিয়ম,
যা প্রতিদিন কারও না কারো জীবনে বহমান ঘটনা”

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s