খরচ

আতিক খুব মনোযোগ দিয়ে তার মানিব্যাগের দিকে তাকিয়ে আছে। নিজের মানিব্যাগ এতক্ষণ ধরে দেখার কিছু নেই, রেক্সিনের সস্তা মানিব্যাগ, জায়গায় জায়গায় রঙ চটে গেছে, ভেতরেও তেমন কিছু নেই যা এভাবে একদৃষ্টিতে দেখতে হবে। আসলে আতিক কিছুই দেখছিল না, তার ভ্রূ কুঁচকে আছে আর নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরা। যখন খুব চিন্তায় থাকে তখন ঠোঁট কামড়ে ধরা আতিকের অভ্যাস। মানিব্যাগে সব মিলিয়ে বত্রিশ টাকা আছে। তিনটা দশ টাকার নোট, একটা দুই টাকা। দশ টাকার একটা নোট আবার ভালমত স্কচটেপ মারা, কোন এক ফাঁকে গছিয়ে দিয়েছে কেউ। এখন চালাতে কষ্ট হবে। আতিকের আপাতত প্রধান চিন্তা কোথা থেকে শ খানেক টাকা ধার পাওয়া যায়। … Continue reading খরচ

এক ঘণ্টার গল্প

সুমনার হার্টের অসুখের কথা আত্মীয়স্বজনদের সবাই জানেন, তাই খুব সাবধানে, যেন চমকে না যান এইভাবে সুমনাকে তার স্বামীর মৃত্যুসংবাদ জানানো হলো। জানালেন সুমনার বোন সেলিনা, ভেঙ্গে ভেঙ্গে, পুরো খবর একবারে না বলে আস্তে ধীরে বড় বোনকে জানালেন তিনি। মিজান সাহেবের সবচেয়ে কাছের বন্ধু রকিব হাসানও সেখানে ছিলেন, সুমনার কাছাকাছি, যেকোনো বিপদ সামাল দিতে প্রস্তুত। তিনিইতো খবরটা নিশ্চিত করে এনেছিলেন খবরের কাগজের অফিস থেকে, অনলাইনে ট্রেনের টিকেটটাও উনিই কিনে দিয়েছিলেন বন্ধুকে! পাহাড়-ধ্বসে সম্পূর্ণ চুরমার বগিগুলোর নাম্বার মিলিয়ে, সেখানে থাকা হতভাগ্য মানুষগুলোর নামের লিস্ট খুঁজে তবেই নিশ্চিত হলেন উনি, এরপরেই শুরু হলো আত্মীয় বন্ধুদের মোবাইলে খবর দেওয়া। হুট করে এরকম দুঃসংবাদ পেলে … Continue reading এক ঘণ্টার গল্প

স্বাদ

শুক্রবারের সকালটা বড় অলস। সারা সপ্তা’র ঘুম এসে যেনো চোখে ভর করে। বিছানা ছাড়তেই ইচ্ছে করেনা। কিন্তু তাহমিনার জন্য সেটা সম্ভব হয়না। নানা কাজ ঠিক করে রাখে সে শুক্রবারের জন্য। এম্নিতে সে নিজেই বাজার করে। ঘরের বিন্দু বিসর্গ সব কাজ নিজেই সামলায়। সেই অর্থে আসিফের আরামের জীবন। সব শুক্রবারেইযে আসিফের জন্য কাজ রাখে তাহমিনা, তেমনটা নয়। কোন কোনদিন তার নিজেরই কাজ থাকে, বেরিয়ে যায়। কোনদিন হয়তো দেখা গেলো সেও পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। ওদের একটা সামাজিক সংগঠনও আছে। তিন সপ্তা পরপর সেটার মিটিং থাকে। ওই শুক্রবারটা আসিফের সবচে প্রিয়। তাহমিনা সকালেই বেরিয়ে যায়। ফিরতে ফিরতে দুপুর গড়ায়। বিছানাটা আসিফের দখলে। কেউ … Continue reading স্বাদ

তোমার

‘আমি তোমার কে?’ চোখে চোখ রেখে ও জিজ্ঞেস করলো। আমি চোখ ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলাম। বরফের মত শান্ত গলায় বললো ও ‘চোখ সরাবা না। চোখে চোখ রেখে বল।’ ওর গলার স্বর এত শান্ত, ছুরির ধারের মতো। আমি আমাকেই খূঁজে পাচ্ছি না। কতবার আকাশের দিকে তাকিয়ে ভেবেছি, তুমিই সব। কতবার ভেবেছি, তুমি ছাড়া আর আমার কিছুই নেই। কিন্তু চোখের দিকে চোখ রেখে এসব কোন কথাই মনে পড়লো না। মনে হলো, এসব কথার কোন অর্থ নেই। আমি কোন দিশা খুঁজে পাই না। যেন অথৈ সমুদ্র। এই অথৈ সমুদ্রে তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি, কিন্তু কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না। ‘তুমি কে?’ চোখের মণি না কাঁপিয়ে ও … Continue reading তোমার

স্মৃতিবান্ধা

সমস্যা বুঝতে তো সমস্যা হইতেই পারে; আমার একটু বেশি হয়। আমি হা কইরা থাকি… খাওয়ার টেবিলের একটা চেয়ার ঘুরাইয়া ঠ্যাং মেলাইয়া দোস্ত মুখ খোলে- আমি তোরে মাত্র দুইটা অপশন দিতে পারি। এক তুই এখনই যাবি আর দুই; কাইল সকালে যাবি তুই… অপশন বিচারের আগে সমস্যটা নিয়া ভাবতে হয় আমার। আমি বুঝতে পারি না আমারে হাফপ্যান্টপরা বয়সে রাইখা দোস্ত কেমনে একটা স্টারধারী জেনারেল হইল। জুলফিতে কিছু পাকধরা চুলও ম্যানেজ কইরা ফালাইছে হালায়… দোস্ত আমার সমস্যারে তার সমস্যার তলে ফালায়া সমাধানের সূত্র বাতায়- তোরে ভাগতে হবে দোস্ত… আমি কথায় কান দেই না দেখে সে আমারে লোভায়- আমি তোর ভাগার ব্যবস্থা করে দিতে … Continue reading স্মৃতিবান্ধা

একদিন অকারনে..

= স্লামালাইকুম স্যার, ডেকেছিলেন? = ওয়াইলাইকুম, ওয়াইলাইকুম আবির সাহেব, বসুন, বসুন। = জ্বি স্যার। = এই যে এইটা আপনার। = কি স্যার? = কি মানে? আপনার পথের দিশা, উন্নতির সোপান! I mean, আপনার এ্যানুয়াল টার্গেট! হেঃ হেঃ। মেইলে soft copy পাঠিয়ে দেয়েছি। গতবারের মত এবারো আপনার কাছে 100% এর বেশী achievement চাই। বুঝতে পেরেছেন? = বুচ্ছি স্যার। = শুধু বুচ্ছি বললেই হবে না, ডিটেইলে বুঝতে হবে। = কেমন স্যার? = এইটাতো হচ্ছে গ্রস সেলস টার্গেট। এবার থেকে কিন্তু শুধু সাত-আটটা চালু আইটেম সেল করে টার্গেট এ্যাচিভ করলে হবে না, ১২টা আইটেমের প্রত্যেকটার আলাদা সাব-টার্গেট দেয়া আছে। সেগুলিও ইন্ডিভিজুয়ালি এ্যাচিভ করতে … Continue reading একদিন অকারনে..

বাক্স

ঘুম থেকে উঠে গুণে গুণে তিরিশটা বুকডন আর উনিশবার সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করার পর ভাদ্রমাসের তালপাকা গরমে হাঁপাতে থাকা ধাঙ্গড়দের তিনঠ্যাঙে নেড়ি কুকুরটার মতো আধা হাত জিব্বা বের করে দম নিতে নিতে বাম চোখের কোনা দিয়ে দেখলাম বাক্সটা এখনও মেঝের উপর পড়ে। বাক্সটা ভিটালির, এসেছে দিন সাতেক আগে। আমার রুমমেট ভিটালির কেনার বাতিক আছে। এমন নয় যে তার বিস্তর টাকা, বরং উল্টোটাই সত্যি, তবে কিনা আজকাল তো আর কিনতে টাকা লাগেনা- তাই যখন তখন যা ইচ্ছে তাই কিনছে। কিনছে-খুলছে-ধরছে-নাড়ছে আর দুদিন পর ফেরত পাঠাচ্ছে। টাকা যে লাগে না সে কি আর এমনি এমনি বলি! টাকা তার ট্যাঁকেই ট্যাঁসে থাকে। দেখে … Continue reading বাক্স