তোমার

‘আমি তোমার কে?’ চোখে চোখ রেখে ও জিজ্ঞেস করলো। আমি চোখ ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলাম। বরফের মত শান্ত গলায় বললো ও ‘চোখ সরাবা না। চোখে চোখ রেখে বল।’ ওর গলার স্বর এত শান্ত, ছুরির ধারের মতো। আমি আমাকেই খূঁজে পাচ্ছি না। কতবার আকাশের দিকে তাকিয়ে ভেবেছি, তুমিই সব। কতবার ভেবেছি, তুমি ছাড়া আর আমার কিছুই নেই। কিন্তু চোখের দিকে চোখ রেখে এসব কোন কথাই মনে পড়লো না। মনে হলো, এসব কথার কোন অর্থ নেই। আমি কোন দিশা খুঁজে পাই না। যেন অথৈ সমুদ্র। এই অথৈ সমুদ্রে তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি, কিন্তু কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না। ‘তুমি কে?’ চোখের মণি না কাঁপিয়ে ও … Continue reading তোমার

স্মৃতিবান্ধা

সমস্যা বুঝতে তো সমস্যা হইতেই পারে; আমার একটু বেশি হয়। আমি হা কইরা থাকি… খাওয়ার টেবিলের একটা চেয়ার ঘুরাইয়া ঠ্যাং মেলাইয়া দোস্ত মুখ খোলে- আমি তোরে মাত্র দুইটা অপশন দিতে পারি। এক তুই এখনই যাবি আর দুই; কাইল সকালে যাবি তুই… অপশন বিচারের আগে সমস্যটা নিয়া ভাবতে হয় আমার। আমি বুঝতে পারি না আমারে হাফপ্যান্টপরা বয়সে রাইখা দোস্ত কেমনে একটা স্টারধারী জেনারেল হইল। জুলফিতে কিছু পাকধরা চুলও ম্যানেজ কইরা ফালাইছে হালায়… দোস্ত আমার সমস্যারে তার সমস্যার তলে ফালায়া সমাধানের সূত্র বাতায়- তোরে ভাগতে হবে দোস্ত… আমি কথায় কান দেই না দেখে সে আমারে লোভায়- আমি তোর ভাগার ব্যবস্থা করে দিতে … Continue reading স্মৃতিবান্ধা

একদিন অকারনে..

= স্লামালাইকুম স্যার, ডেকেছিলেন? = ওয়াইলাইকুম, ওয়াইলাইকুম আবির সাহেব, বসুন, বসুন। = জ্বি স্যার। = এই যে এইটা আপনার। = কি স্যার? = কি মানে? আপনার পথের দিশা, উন্নতির সোপান! I mean, আপনার এ্যানুয়াল টার্গেট! হেঃ হেঃ। মেইলে soft copy পাঠিয়ে দেয়েছি। গতবারের মত এবারো আপনার কাছে 100% এর বেশী achievement চাই। বুঝতে পেরেছেন? = বুচ্ছি স্যার। = শুধু বুচ্ছি বললেই হবে না, ডিটেইলে বুঝতে হবে। = কেমন স্যার? = এইটাতো হচ্ছে গ্রস সেলস টার্গেট। এবার থেকে কিন্তু শুধু সাত-আটটা চালু আইটেম সেল করে টার্গেট এ্যাচিভ করলে হবে না, ১২টা আইটেমের প্রত্যেকটার আলাদা সাব-টার্গেট দেয়া আছে। সেগুলিও ইন্ডিভিজুয়ালি এ্যাচিভ করতে … Continue reading একদিন অকারনে..

বাক্স

ঘুম থেকে উঠে গুণে গুণে তিরিশটা বুকডন আর উনিশবার সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করার পর ভাদ্রমাসের তালপাকা গরমে হাঁপাতে থাকা ধাঙ্গড়দের তিনঠ্যাঙে নেড়ি কুকুরটার মতো আধা হাত জিব্বা বের করে দম নিতে নিতে বাম চোখের কোনা দিয়ে দেখলাম বাক্সটা এখনও মেঝের উপর পড়ে। বাক্সটা ভিটালির, এসেছে দিন সাতেক আগে। আমার রুমমেট ভিটালির কেনার বাতিক আছে। এমন নয় যে তার বিস্তর টাকা, বরং উল্টোটাই সত্যি, তবে কিনা আজকাল তো আর কিনতে টাকা লাগেনা- তাই যখন তখন যা ইচ্ছে তাই কিনছে। কিনছে-খুলছে-ধরছে-নাড়ছে আর দুদিন পর ফেরত পাঠাচ্ছে। টাকা যে লাগে না সে কি আর এমনি এমনি বলি! টাকা তার ট্যাঁকেই ট্যাঁসে থাকে। দেখে … Continue reading বাক্স

গ্রহণ

আন্তেনিওর জন্ম হয়েছিলো চব্বিশে জুলাই। এমনিতে জুলাই মাসের আলাদা কোন বিশেষত্ব নেই, প্রতি বছরই আসে একটা করে, আর সংখ্যা হিসেবেও চব্বিশ তেমন আহামরি কিছু নয়। তবে আন্তেনিওর জন্মের দিনটা মনে রাখার মতো কেননা ওই দিনই জেনারেল জর্জ প্যাটন সসৈন্যে সিসিলিতে অবতরণ করেছিলেন। এটা উনিসশ তেতাল্লিশ সালের কথা। ইটালির ক্ষমতায় তখন বেনিতো মুসোলিনি। আন্তেনিওর বাবা আরিগো ফেনুচ্চি মুসোলিনির কুখ্যাত গোপন বাহিনী ‘ওভরা’র একজন সদস্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দলিলপত্রে অবশ্য আরিগো ফেনুচ্চি নামে কারো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। ওভরা ছিল গোপন সংগঠন, এর সদস্যরা মিশে থাকতেন সাধারণ মানুষের ভিড়ে, যেমন ছিলেন পালের্মো বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী ফেনুচ্চি। জীবনের একটা সময় পর্যন্ত বেহালাই ছিলো তাঁর … Continue reading গ্রহণ

(বে)তমিজউদ্দিন কোং লিমিটেড

১৬৩০ সালের এক মেঘলা দুপুরে তমিজউদ্দিন চারটা বাণিজ্য জাহাজে পণ্য নিয়ে ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বন্দরে ঢুকে পছন্দমতন জায়গা বেছে নোঙর ফেললো। জায়গাটা বড় সুন্দর নিরিবিলি। এখানে একটা ফ্যাক্টরি করতে পারলে মালামাল আমদানি রপ্তানি গুদামজাত করা ইত্যাদির বেশ সুবিধা হতো। আবহাওয়া ঠাণ্ডা মেন্দামারা হলেও জায়গা খারাপ না। ভাবনাটি কাজে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হলো সাথে সাথে। দুত পাঠিয়ে রাজার কাছ থেকে একটা অনুমতিপত্র আনা হলো। শর্তযুক্ত অনুমতি। শর্ত হলো এখানে ব্যবসা করতে হলে বছরে ৩ হাজার পাউন্ড ট্যাক্স দেয়া লাগবে। তমিজউদ্দিন তাতে রাজী। অতঃপর নদীর তীরে গাছ কেটে পরিষ্কার করে কয়েকটা ছাউনি তুলে নিজেদের মালামালগুলো রাখতে শুরু করলো তমিজ। কিন্তু স্থানীয় ইংরেজরা … Continue reading (বে)তমিজউদ্দিন কোং লিমিটেড

কুয়া

১ রমজান কুয়োর মধ্যে উঁকি দিয়ে দেখে। অনেক আগের থাক থাক করা ইট-গাঁথা নামার সিঁড়ি, চলে গেছে একদম অন্ধকার পর্যন্ত। অনেক আগের কুয়ো। ওর মনে পড়ে ছোটবেলায় মাতব্বর কাকার এই পেছনবাড়ির বাগানে কত খেলতো ওরা। আর এই জায়গাটা তখন এরকম জঙ্গল ছিল না। বেশ গোছানো একটা বাগান ছিল। আম জাম কাঁঠাল কামরাঙ্গা সব ধরনের ফলের গাছে ভরা ছিল জায়গাটা। আর মাঝখানে একটা বাঁধানো কুয়ো।দলবেঁধে ওরা মাঝেমাঝে আসতো বাগানে চুরি করে খেতে। মাতব্বর কাকা কখনো মানা করেননি ওদের। দেখলে বলতেন, ‘আইসছে রে বান্দরের দল, গেল আমার জামগুলি সব গেল!’ কিন্তু ওই পর্যন্তই। কখনো মজা করে লাঠি নিয়ে দৌড়ে যেতেন মিছেমিছি। নিঃসন্তান … Continue reading কুয়া